বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি
বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাদকদ্রব্যের বিস্তার। তরুণ-যুবসমাজ, এমনকি স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ইয়াবা, গাঁজা ও দেশীয় মদের নেশা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সহজলভ্যতা ও নজরদারির অভাবে পুরো উপজেলা জুড়ে মাদক এখন প্রায় প্রকাশ্য বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে।
হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক।অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলা পৌর শহরসহ ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইয়াবা ও গাঁজার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সরবরাহ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিভাবকদের দাবি, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে কিশোর-তরুণদের মধ্যে আসক্তি দ্রুত বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন।স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা খুব কম। বিশেষ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর অভিযান খুব কম দেখা যায় বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য, বছরে দুই-একটি অভিযানের বেশি দেখা যায় না। ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি কম মনে করে প্রকাশ্যে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ব্যবসা নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, পৌর এলাকায় অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি সরাসরি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির অর্থায়নে মাদক কেনা হয় এবং ডেলিভারি ম্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অধিকাংশ মাদক ঢাকা থেকে নৌপথ ও সড়কপথে আসে। এছাড়া বরিশাল শহরের কয়েকজন শীর্ষ কারবারির মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদক সরবরাহ করা হয়।মামলা হচ্ছে, কিন্তু কমছে না মাদক স্থানীয় সূত্র মতে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে ১৩২টি মামলা হয় ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৫০০টির বেশি মামলা হয়েছে ২০২৬ সালে মামলার সংখ্যা তুলনামূলক কম।এলাকাবাসীর অভিযোগ, মামলার সংখ্যা বাড়লেও বড় কারবারিরা অধিকাংশ সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রেফতার হলেও জামিনে বের হয়ে আবার একই কাজে জড়িয়ে পড়ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত কিছু সোর্সের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
অনেক সময় অভিযানের তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে যায়, ফলে শীর্ষ মাদক কারবারিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ ঝুঁকিতে গ্রামাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মাদক সেবনের প্রবণতা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চোখে পড়ার মতো নয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে,নিয়মিত অভিযানশীর্ষ কারবারিদের গ্রেফতার রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ছত্রছায়া বন্ধ জনসচেতনতা বৃদ্ধি।এই পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বাকেরগঞ্জে মাদকের বিস্তার দিন দিন ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো একটি প্রজন্ম ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স